নিরাপত্তা: আপনার অ্যাকাউন্ট ও তথ্য কীভাবে সুরক্ষিত থাকে

TrueLedgency প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ, ডেটা সংরক্ষণ, এপিআই সংযোগ ও সহায়তা প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে কী কী ব্যবস্থা আছে এবং আপনার নিজের কী করণীয়, তা এই পাতায় নয়টি ভাগে লেখা হয়েছে। কোনো ব্যবস্থাই শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না, তাই আপনার সতর্কতাও সমান জরুরি।

১. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ)

পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি দ্বিতীয় একটি যাচাই যোগ করলে শুধু পাসওয়ার্ড জেনে কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারে না। আপনি অথেনটিকেটর অ্যাপের একবারব্যবহার্য কোড অথবা মোবাইলে পাঠানো কোড বেছে নিতে পারেন। আমরা অ্যাকাউন্ট খোলার পরপরই এটি চালু করার জোরালো পরামর্শ দিই, এবং উত্তোলনের মতো সংবেদনশীল কাজে এটি চাওয়া হয়।

ফোন হারালে বা বদলালে ব্যাকআপ কোড দিয়ে অথবা পরিচয় যাচাইয়ের পর সহায়তা দলের মাধ্যমে ২এফএ নতুন করে সেট করা যায়। ব্যাকআপ কোড কাগজে লিখে নিরাপদ জায়গায় রাখুন, ফোনের ছবিতে নয়।

সুপারিশ: সবসময় চালু রাখুন

২. এনক্রিপশন

আপনার ব্রাউজার ও আমাদের সার্ভারের মধ্যে সব যোগাযোগ শিল্পমানের এইচটিটিপিএস (টিএলএস) সংযোগে চলে, ফলে মাঝপথে কেউ তথ্য পড়তে পারে না। সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড কখনও সরল পাঠ্যে রাখা হয় না, একমুখী হ্যাশ করে রাখা হয়। এপিআই কী ও সংবেদনশীল কনফিগারেশন আলাদাভাবে এনক্রিপ্ট করা থাকে।

এই ব্যবস্থার দায়িত্বে আছে আমাদের অবকাঠামো ও নিরাপত্তা দল। এনক্রিপশন কী-গুলোতে প্রবেশাধিকার খুব সীমিত কয়েকজনের হাতে থাকে এবং তা লগে নথিবদ্ধ হয়।

তথ্য সংরক্ষণ ও স্থানান্তর, উভয় ক্ষেত্রে

৩. প্রতারণা ও ফিশিং থেকে সুরক্ষা

প্রতারকেরা প্রায়ই আমাদের নাম ও লোগো নকল করে ভুয়া সাইট বা বার্তা পাঠায়। আমাদের একমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হলো https://trueledgency.org, আর ইমেইল সবসময় [email protected] ঠিকানার ডোমেইন থেকে আসে। অন্য ডোমেইন, সামাজিক মাধ্যমের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বা অচেনা নম্বর থেকে আসা বার্তা বিশ্বাস করবেন না।

অ্যাকাউন্টে একটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কোড বা বাক্য সেট করা যায়, যা আমাদের পাঠানো প্রতিটি ইমেইলে দেখানো হয়। আপনার সেট করা বাক্যটি না থাকলে ইমেইলটি আমাদের নয়। সন্দেহ হলে প্রতারণা সতর্কতা পাতাটি দেখুন।

ওটিপি বা পাসওয়ার্ড আমরা কখনও চাই না

৪. লগইন বিজ্ঞপ্তি

নতুন ডিভাইস বা নতুন স্থান থেকে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন হলে সঙ্গে সঙ্গে নিবন্ধিত ইমেইলে বিজ্ঞপ্তি যায়, যেখানে সময়, আনুমানিক অবস্থান ও ডিভাইসের ধরন লেখা থাকে। পাসওয়ার্ড বদল, এপিআই কী যোগ বা উত্তোলনের অনুরোধ করলেও আলাদা বার্তা আসে।

অপরিচিত কোনো লগইনের বার্তা পেলে সেটিকে হালকাভাবে নেবেন না। দ্রুত পাসওয়ার্ড বদলে সব সেশন বন্ধ করুন এবং আমাদের সহায়তা দলকে জানান।

ইমেইল ও অ্যাপ বিজ্ঞপ্তি

৫. ডিভাইস ও সেশন ব্যবস্থাপনা

নিরাপত্তা সেটিংয়ে আপনি দেখতে পারবেন কোন কোন ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় আছে। যে কোনো সেশন এক ক্লিকে বন্ধ করে দেওয়া যায়। নির্দিষ্ট সময় নিষ্ক্রিয় থাকলে সেশন নিজে থেকেই শেষ হয়ে যায়, যাতে অন্যের কম্পিউটারে লগইন করে ফেলে এলেও ঝুঁকি কমে।

পাবলিক কম্পিউটার বা ক্যাফের শেয়ার করা ডিভাইস থেকে লগইন না করাই ভালো। করতেই হলে কাজ শেষে অবশ্যই লগআউট করুন।

অ্যাক্টিভ সেশন সবসময় দেখা যায়

৬. অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার

পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে নিবন্ধিত ইমেইলে একটি সীমিত সময়ের লিঙ্ক পাঠানো হয়। ২এফএ ডিভাইস হারানোর ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আমরা সরকারি পরিচয়পত্র ও একটি লাইভ ছবি চাইতে পারি। এই প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে কিছুটা কঠোর, কারণ সহজ পুনরুদ্ধার মানে প্রতারকের জন্যও সহজ পথ।

পুনরুদ্ধারের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা উত্তোলনের পরিমাণে সাময়িক সীমা থাকতে পারে। এটি আপনার সুরক্ষার জন্য, শাস্তি নয়।

যাচাই ছাড়া অ্যাকাউন্ট ফেরত দেওয়া হয় না

৭. এপিআই কী-র অনুমতি

এক্সচেঞ্জে এপিআই কী তৈরির সময় আলাদা আলাদা অনুমতি দেওয়া যায়: শুধু তথ্য পড়া, ট্রেড করা, অথবা অর্থ উত্তোলন। TrueLedgency স্বয়ংক্রিয় ট্রেডিংয়ের জন্য শুধু পড়া ও ট্রেডের অনুমতি চায়। উত্তোলনের অনুমতি কখনও দেবেন না, দিলে আপনার কী ফাঁস হলে অর্থ সরাসরি বেরিয়ে যেতে পারে।

সম্ভব হলে এক্সচেঞ্জের সেটিংয়ে আমাদের সার্ভারের আইপি ঠিকানা সাদা তালিকায় দিন। কী সন্দেহজনক মনে হলে এক্সচেঞ্জ থেকে বাতিল করে নতুন কী তৈরি করুন।

পড়া ও ট্রেড: হ্যাঁ, উত্তোলন: না

৮. অডিট ইতিহাস

অ্যাকাউন্টের সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ইতিহাসে জমা থাকে: লগইন ও লগআউট, নতুন সংযোগ, কৌশল চালু বা বন্ধ, সেটিং পরিবর্তন এবং উত্তোলনের অনুরোধ। প্রতিটি এন্ট্রিতে সময় ও ডিভাইসের তথ্য থাকে। আপনি যে কোনো সময় এই তালিকা দেখতে পারেন।

কোনো লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন বা অভিযোগ থাকলে এই ইতিহাসই আমাদের ও আপনার সবচেয়ে বড় নির্ভরযোগ্য উৎস।

নিয়মিত পর্যালোচনা করুন

৯. ঘটনা ঘটলে সহায়তা

অ্যাকাউন্ট নিয়ে সন্দেহ হলে [email protected] ঠিকানায় লিখুন অথবা ব্যক্তিগত ম্যানেজারকে জানান। যাচাই শেষে আমরা প্রয়োজনে অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করি, যাতে ক্ষতি আর না বাড়ে। এরপর কী ঘটেছিল তা খুঁজে দেখা হয় এবং ফলাফল আপনাকে জানানো হয়।

গুরুতর ঘটনায় কেস নিরাপত্তা দলে পাঠানো হয়। আপনি সাধারণত প্রথম সাড়া এক কর্মঘণ্টার মধ্যে পাবেন, আর বড় তদন্তে অগ্রগতি জানানো হয় নিয়মিত।

২৪/৭ ইমেইল, কর্মঘণ্টায় কলব্যাক

আপনার করণীয়: প্রতিদিনের নিরাপত্তা অভ্যাস

আমাদের ব্যবস্থা যতই শক্ত হোক, বেশিরভাগ অ্যাকাউন্ট দখলের ঘটনা ঘটে ব্যবহারকারীর দিক থেকে কোনো একটি ছোট ফাঁক দিয়ে। নিচের অভ্যাসগুলো সেই ফাঁক বন্ধ করে।

  • প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড। একই পাসওয়ার্ড একাধিক সাইটে ব্যবহার করলে একটি সাইটের ফাঁস সব অ্যাকাউন্টকে ঝুঁকিতে ফেলে। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা ভালো।
  • ডিভাইস হালনাগাদ রাখুন। ফোন ও কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম ও ব্রাউজার নিয়মিত আপডেট করুন এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া অ্যাপ ইনস্টল করবেন না।
  • লিঙ্ক নয়, ঠিকানা মিলিয়ে দেখুন। ইমেইল বা মেসেজের লিঙ্ক থেকে নয়, সরাসরি https://trueledgency.org ঠিকানা লিখে বা বুকমার্ক থেকে প্রবেশ করুন।
  • স্ক্রিন শেয়ার ও রিমোট অ্যাক্সেস এড়িয়ে চলুন। কেউ সহায়তার নামে আপনার স্ক্রিন দেখতে চাইলে বা অ্যাপ ইনস্টল করতে বললে তা প্রত্যাখ্যান করুন।

আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা

প্ল্যাটফর্মের সার্ভারে প্রবেশাধিকার ভূমিকা অনুযায়ী সীমাবদ্ধ, অর্থাৎ একজন কর্মী শুধু সেই তথ্য দেখতে পারেন যা তার কাজের জন্য প্রয়োজন। গ্রাহকের তথ্যে প্রতিটি প্রবেশ নথিবদ্ধ হয় এবং নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। নতুন কোড প্রকাশের আগে নিরাপত্তা পরীক্ষা ও পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক। ব্যাকআপ আলাদা স্থানে এনক্রিপ্ট করে রাখা হয় যাতে কোনো সমস্যায় সেবা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা যায়।

আমাদের কর্মীদের প্রতি বছর নিরাপত্তা সচেতনতা ও ডেটা সুরক্ষার প্রশিক্ষণ নিতে হয়, বিশেষ করে ফিশিং শনাক্তকরণ এবং গ্রাহকের তথ্য সামলানোর নিয়মে। কোনো ঘটনা ঘটলে তা থেকে শেখা বিষয়গুলো পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়।

নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধতা

আমরা যুক্তিসঙ্গত সব প্রযুক্তিগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিই, তবে ইন্টারনেটভিত্তিক কোনো সেবাই ঝুঁকিমুক্ত নয়। তৃতীয় পক্ষের এক্সচেঞ্জ, মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংকের নিরাপত্তা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই যে অর্থ আপনি হারাতে রাজি নন, তা কখনও বিনিয়োগ করবেন না এবং বিস্তারিত জানতে ঝুঁকি প্রকাশ পাতাটি পড়ুন।

সন্দেহ হলে প্রথম পাঁচ মিনিটে যা করবেন

অ্যাকাউন্টে অপরিচিত কিছু দেখলে প্রথমে পাসওয়ার্ড বদলান এবং সব সেশন বন্ধ করুন। তারপর এক্সচেঞ্জে গিয়ে এপিআই কী মুছে ফেলুন। সবশেষে আমাদের [email protected] ঠিকানায় ঘটনার সময় ও বিবরণসহ জানান। এই ক্রমটি মানলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষতি সীমিত রাখা যায়। যদি আপনার মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংকের তথ্যও ফাঁস হয়েছে বলে মনে হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হটলাইনে অবিলম্বে যোগাযোগ করে কার্ড বা অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিন।

মনে রাখবেন, আমাদের কোনো কর্মী আপনার পাসওয়ার্ড, ২এফএ কোড বা ব্যাকআপ কোড কখনও চাইবেন না। এমন অনুরোধ এলে সেটিকে প্রতারণা ধরে নিন এবং আমাদের জানান।

নিরাপত্তা একটি যৌথ দায়িত্ব। আমাদের ব্যবস্থা আপনার সচেতনতার ওপর নির্ভর করে: শক্ত পাসওয়ার্ড, ২এফএ, সীমিত অনুমতির এপিআই কী এবং সন্দেহজনক বার্তা এড়িয়ে চলা। আরও জানতে কেওয়াইসি ও এএমএল নীতি এবং ঝুঁকি প্রকাশ পড়ুন।

নিরাপদ পরিবেশে শুরু করুন

অ্যাকাউন্ট খোলার পর ম্যানেজার আপনাকে ২এফএ ও এপিআই সেটআপে সাহায্য করবেন।

বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন