প্রবন্ধ ১
ট্রেডিংয়ে নতুনরা যে ছয়টি ভুল সবচেয়ে বেশি করেন
নতুন ট্রেডারদের বেশিরভাগ ক্ষতি ঘটে বাজারের জটিলতার কারণে নয়, বরং কয়েকটি পরিচিত আচরণগত ভুলের কারণে। এই ভুলগুলো আগে থেকে চিনে রাখলে সেগুলো এড়ানো সহজ হয়।
১. ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অঙ্ক বাড়িয়ে দেওয়া
একটি ক্ষতির পর দ্রুত বড় অঙ্ক লাগিয়ে সব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা সবচেয়ে বিপজ্জনক অভ্যাস। এতে ক্ষতির আকার অনেক সময় আরও বেড়ে যায়। সমাধান হলো আগে থেকে ঠিক করা সীমা মেনে চলা, ক্ষতি যতই বিরক্তিকর হোক।
২. সব মূলধন এক জায়গায় রাখা
একটি সম্পদে পুরো অর্থ ঢেলে দিলে সেই সম্পদের একটি খারাপ দিনই আপনার পুরো হিসাব বদলে দিতে পারে। একাধিক সম্পদে মূলধন ভাগ করে রাখলে কোনো একটির ঝড় পুরো পোর্টফোলিওকে স্পর্শ করে না।
৩. গুজব ও সামাজিক মাধ্যমের পরামর্শের পেছনে ছোটা
"এই কয়েনটি এখনই কিনুন" ধরনের বার্তা সাধারণত তখনই ছড়ায় যখন দাম আগেই বেড়ে গেছে। যে তথ্য সবাই জানে, বাজারে তার সুযোগ প্রায়ই শেষ হয়ে গেছে। যে কোনো পরামর্শ নিজে যাচাই করুন।
৪. ফি ও স্প্রেড উপেক্ষা করা
প্রতিটি ট্রেডে ছোট ছোট খরচ যুক্ত হয়, এবং ঘনঘন ট্রেড করলে সেগুলো মিলে বড় অঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়। কোনো কৌশলের ফল বিচার করার সময় সবসময় খরচ বাদ দিয়ে নিট ফল দেখুন।
৫. নিজের নিরাপত্তা অবহেলা
দুর্বল পাসওয়ার্ড, টু-ফ্যাক্টর ছাড়া অ্যাকাউন্ট কিংবা উত্তোলনের অনুমতিসহ এপিআই কী ব্যবহার করা অনেক ক্ষতির মূল কারণ। ট্রেডিংয়ের চেয়েও আগে নিরাপত্তা ঠিক করুন।
৬. পরিকল্পনা ছাড়া শুরু করা
কত অঙ্ক বিনিয়োগ করবেন, কখন বের হবেন এবং কতটা ক্ষতি মেনে নেবেন, এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর না জেনে শুরু করলে সিদ্ধান্ত আবেগের ওপর চলে যায়। কয়েক লাইনের লিখিত পরিকল্পনাও বড় পার্থক্য আনে।
প্রবন্ধ ২
ম্যানুয়াল ট্রেডিং বনাম স্বয়ংক্রিয় ট্রেডিং: কোনটি কীভাবে আলাদা
ম্যানুয়াল ট্রেডিংয়ে প্রতিটি সিদ্ধান্ত আপনি নিজে নেন এবং নিজে ট্রেড করেন। স্বয়ংক্রিয় ট্রেডিংয়ে আপনি নিয়ম ঠিক করে দেন আর সফটওয়্যার সেই নিয়ম অনুযায়ী বাজার দেখে ট্রেড করে। দুটোর শক্তি ও দুর্বলতা আলাদা।
| দিক | ম্যানুয়াল | স্বয়ংক্রিয় |
| সময় | বাজারের সামনে বসে থাকতে হয় | সেটআপের পর নিজে নিজে চলে |
| আবেগ | ভয় ও লোভ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে | নিয়ম অনুযায়ী ধারাবাহিক আচরণ |
| গতি | মানুষের প্রতিক্রিয়ার সময় লাগে | সেকেন্ডের ভগ্নাংশে সংকেতে সাড়া |
| নমনীয়তা | অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে মানুষ বিচার করতে পারে | নিয়মের বাইরের পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ |
| প্রয়োজনীয় দক্ষতা | বিশ্লেষণ ও চার্ট পড়ার দক্ষতা | কৌশল ও ঝুঁকি সীমা বোঝা |
স্বয়ংক্রিয় ট্রেডিং আবেগের ভুল কমায় এবং নিদ্রাহীন সময়েও বাজার পর্যবেক্ষণ করতে পারে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে এটি নির্ভুল। একটি স্বয়ংক্রিয় কৌশল যে ধরনের বাজারের জন্য তৈরি, বাজার সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে চললে তার ফল খারাপ হতে পারে। তাই দুই পদ্ধতিতেই আপনার নজরদারি ও ঝুঁকি সীমা দরকার।
অনেকে দুটোর সমন্বয় বেছে নেন: দৈনন্দিন বাজার পর্যবেক্ষণ ও ট্রেড স্বয়ংক্রিয় কৌশলের হাতে ছেড়ে দেন, আর বড় সিদ্ধান্ত, যেমন অঙ্ক বাড়ানো বা কৌশল বদলানো, নিজের হাতে রাখেন।
প্রবন্ধ ৩
ট্রেডারের মনস্তত্ত্ব: বাজারে আপনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ কে
অভিজ্ঞ ট্রেডাররা প্রায়ই বলেন, ট্রেডিংয়ের সবচেয়ে কঠিন অংশ বিশ্লেষণ নয়, নিজের আবেগ সামলানো। বাজার আপনার কাছ থেকে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও ক্ষতি মেনে নেওয়ার ক্ষমতা চায়।
ভয় ও লোভ
দাম দ্রুত বাড়তে দেখলে "আমি বাদ পড়ে যাচ্ছি" এই ভয় (এফওএমও) মানুষকে সবচেয়ে উঁচু দামে কিনতে ঠেলে দেয়। আবার দাম পড়তে দেখলে আতঙ্কে সবচেয়ে নিচু দামে বিক্রি করে ফেলা হয়। দুই ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটি নিয়ম থাকলে সুবিধা হয়।
অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস
কয়েকটি সফল ট্রেডের পর অনেকে নিজের ক্ষমতাকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করেন এবং ঝুঁকি বাড়িয়ে ফেলেন। বাজারের জয় আপনার দক্ষতারই ফল, না ভাগ্যের, তা আলাদা করা কঠিন। তাই সাফল্যের সময়ও সীমা মেনে চলা দরকার।
ক্ষতি নিয়ে অনুভূতি
মানুষ স্বাভাবিকভাবেই লাভের আনন্দের চেয়ে ক্ষতির কষ্টকে বেশি তীব্রভাবে অনুভব করে। এর ফলে ক্ষতিতে থাকা অবস্থান বেশি সময় ধরে রাখা এবং লাভের অবস্থান দ্রুত বিক্রি করে ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়। আগে থেকে নির্ধারিত বের হওয়ার নিয়ম এই প্রবণতা কমায়।
কয়েকটি সহজ অভ্যাস
- ট্রেডের আগেই কারণ ও বের হওয়ার শর্ত লিখে রাখুন।
- একটি ক্ষতির পর বিরতি নিন, সঙ্গে সঙ্গে নতুন ট্রেড করবেন না।
- সপ্তাহের শেষে ফল পর্যালোচনা করুন, তবে একটি সপ্তাহের ফল দিয়ে কৌশল বিচার করবেন না।
- স্বয়ংক্রিয় সীমা ব্যবহার করুন যাতে আবেগের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে না হয়।
এই প্রবন্ধগুলো কোনো বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। আপনার ঝুঁকি, আর্থিক অবস্থা ও লক্ষ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন এবং শুরুর আগে ঝুঁকি প্রকাশ পড়ে নিন।